জয়তুন ও জলপাই একই নাকি ভিন্ন?

সম্মানিত কাস্টমারদের অনেকের এই বিষয়ে কৌতুহল দেখা যায়, “জয়তুন ও জলপাইয়ের ইংরেজি অলিভ, তার মানে কি দুইটাই এক!”অনেকেই আবার ভাবেন,” আরবে জলপাইকেই জয়তুন বলে!”দুটোই ভুল ধারণা। ইন্টারনেটে দুই ফলকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ায় অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।

.এবার আসুন জেনে নেই জলপাই ও জয়তুন সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ-

জলপাইঃ জলপাই একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় টক ফল। এর বৈজ্ঞানিক নামঃ “Elaeocarpus serratus”। এটি সিলন অলিভ (Ceylon olive) নামেও পরিচিত। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইন্দোচীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফল উৎপাদিত হয়।প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ৯ দশমিক ৭ শর্করা, ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি।জলপাই গাছ মাঝারি আকারের, ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শীতকালে পাতা ঝরে পড়ে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে নতুন পাতা আসে।জলপাইয়ের গড়ন প্রায় আমড়ার মতোই। তবে আমড়ার চেয়ে আকারে ছোট। এর পাতলা আবরণের ভেতর থাকে খাবার উপযোগী শাঁস ও একটি শক্ত আঁটি বা বীজ।একটি ফলের ওজন ১৫.৭৮ থেকে ২২.৪৬ গ্রাম, দৈর্ঘ ৪.০৭ থেকে ৪.৪৯ সে:মি:, ব্যাস ২.৬২ থেকে ২.৮৯ সে:মি: হয়ে থাকে। ফলের রং হয় গাঢ় সবুজ, একটি বাদামী বীজ থাকে ফলের মধ্যখানে, বীজের চারপাশ ঘিরে থাকে টক-মিষ্টি স্বাদের শাঁস।

জয়তুনঃ জয়তুন এক ধরনের ভিন্ন স্বাদের ফল। না মিস্টি না টক না ঝাল। বলা যায় পানসে/ তিক্ত স্বাদের ফল যার বৈজ্ঞানিক নামঃ Olea europaea। এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে লেবানন, তুরস্কের সামুদ্রিক অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল তথা কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে ভাল জন্মে।জয়তুন গাছ ৮-১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা ৪-১০ সে.মি. লম্বা ও ১-৩ সে.মি. প্রশস্ত হয়ে থাকে।জয়তুন ফল বেশ ছোট আকারের, লম্বায় মাত্র ১-২.৫ সে.মি. লম্বা হয়ে থাকে। জয়তুন ফল বিভিন্ন কালারের হয়ে থাকে। সবুজ, লালচে ও কালো। জয়তুন ফলের চেয়ে এর তেলের ব্যবহার সর্বাধিক। রূপচর্যা, গায়ে ও চুলে মাখার তেল, ভোজ্যতেল হিসেবে জয়তুন তেলের ব্যবহার সারাবিশ্বে। রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন মুখরোচক খাবার যেমন পিৎজাতে এর ব্যবহার করা হয়। আরব ও ইউরোপে খাবার আইটেমে বহুল ব্যবহৃত। বাজারে কয়েক ধরনের জয়তুনের তেল পাওয়া যায়।

যেমন- ১। Extra virgin – এটা প্রথম ধাপ। সরাসরি জয়তুন ফল থেকে তৈরি। এসিডেটি ১% এর নিচে। রান্নার জন্য বা সালাদে গবেষকরা এটা প্রস্তাব করেন।

২। Virgin – Extra virgin পরের ধাপ এটা। এতে এসিডের পরিমাণ ১ থেকে ২% থাকে।

৩। Refine Pure – ৩য় ধাপ। এতে এসিডের পরিমাণ ৩% থেকে ৪।

রসূল (ﷺ) বলেছেন, “তোমরা এই তেলটি খাও, তা শরীরে মাখাও।(ইবনে মাজাহ্-এ হাদিস নং ৩৩২০)। জয়তুন তেল যে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, তা ইবনুল কাইয়্যূম তার “The Medicine of the Prophet (ﷺ)” বইয়ে তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন ।

জলপাই ফল
ব্ল্যাক অলিভ ফল
গ্রীন অলিভ ফল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *