fbq('track', 'AddToCart');

সিরিয়া মহাযুদ্ধের কাল

সিরিয়া মহাযুদ্ধের কাল

৳ 460.00 ৳ 250.00

বইঃ সিরিয়া মহাযুদ্ধেরর কাল

লেখকঃ জসিম উদ্দিন অাহমাদ

প্রকাশনীঃ দারুল কুতুব

 

Qty:
Compare

Description

সিরিয়া মহাযুদ্ধের কাল মুসলমানদের হৃদয়ে সিরিয়া একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এককথায় মুসলমানদের তীর্থভূমি। ইসলামের অসংখ্য নবী-রাসূলের পদচারণায় মুখর এক জনপদ। ইতিহাসখ্যাত বহু মনীষী জন্ম নিয়েছেন এই ঋদ্ধ ভূমিতে। ছিলো রোম সম্রাজ্যের বাণিজ্যিক শহর। এককথায় বলা যায় সিরিয়া পৃথিবীর হৃদয়। এখানে অশান্তি মানে পুরো বিশ্বে অশান্তি। এখানকার ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ। ভৌগলিক অবস্থান ও সিরিয়াকে করেছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসের ভাষায় সিরিয়াকে বলা হয় বিলাদুশ শাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোবারক মুখ থেকে সিরিয়া সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে অসংখ্য হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরামের থেকে আছারুস সাহাবা। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী মালহামা বা মহাযুদ্ধের যুগে অধিকাংশ মুমিন হিজরত করে শাম চলে যাবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শামের ফজীলতেরর পাশাপাশি শামে বসবাসের উৎসাহ প্রদান করেছেন। শামের জন্য বিশেষ বরকতের দোয়া করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সিরিয়া আল্লাহর জমিনের সর্বোৎকৃষ্ট ভূমি যেখানে আল্লাহ তাঁর সর্বোৎকৃষ্ট বান্দাদের নিয়ে আসবেন”। (মুসনাদে আহমাদ: ৪/১১০) কেয়ামতের পূর্বে এখানে মুসলমান সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি হবে বলে হাদীসে ভবিষৎবাণী দেয়া হয়েছে। এমনকি উম্মাহর নির্জীবতার সময়ও সিরিয়ার মাটি ঈমানের সতেজতায় সজীব থাকবে। কেয়ামতের পূর্বে সিরিয়াতেই কাফের ও মুসলমানদের মাঝে ভয়াবহ সংঘাত হবে। সত্য মিথ্যার চূড়ান্ত ফায়সালা এই মাটিতেই হবে। যাকে হাদীসের ভাষায় ‘আল-মালহামা’ বা মহাযুদ্ধ বলা হয়। মালহামার সময় সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ‘গুতা’ শহরে মুসলমানরা অবস্থান নিবেন। এই পবিত্র ভূমিতে ইমাম মাহদীর সেনাবাহিনী রোমানদের বিরুদ্ধে মোকাবেলার জন্য একত্রিত হবেন। ঈসা আলাইহিস সালাম দামেশকের জামে মসজিদের ‘মানারতুল বায়যা’ বা সাদা মিনারে অবতরণ করবেন। এখানে দাজ্জাল বাহিনীর সাথে ঘোরতর লড়াই হবে। অবশেষে ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জাল কে হত্যা করবেন। সিরিয়ার সবচেয়ে বড় ফজীলত; এই উম্মাহর বিজয়ী দল কেয়ামতের পূর্বপর্যন্ত সিরিয়াতেই অবস্থান করবে। বিশ্বাসঘাতকেরা কিংবা শত্রুরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। যদিও বাহ্যিকভাবে নির্যাতিত মনে হয়। সামগ্রিকভাবে বলা চলে বইয়ের মূল পাঠ উল্লিখিত আলোচনা। পাঠক মাত্রই সিরিয়ার জন্ম থেকে বই প্রকাশ তথা মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত। ধর্মীয় আলোচনা। হাদীসের পাঠ। ইতিহাসের আস্তর আবৃত ঘটনা। অতীত থেকে বর্তমান অব্দি রাজনৈতিক তেলেছমাতি, আরবসহ সমগ্র ক্রুসেডারদের মনোভাব ও বিশ্লেষণের নির্মোহ বর্ণনা পাবেন। প্রত্যেক বিষয় লেখক যথেষ্ট মেধা খাটিয়ে, দলিল-দস্তাবিজসমেত উপস্থাপন করেছেন। ইতিহাস বর্ণনার ভঙ্গিমায় পাঠককে টেনে ধরে রাখার মতো একটি লেখনশৈলী ব্যবহার করেছেন। সেইসাথে ইতিহাসের ভাঁজে ভাঁজে সিরিয়া বিষয়ক কুরআন, হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা তো আছেই। এতে হাদীস এবং ইতিহাস পাঠের অনন্য এক স্বাদ অনুভূত হবে। যে বসন্ত নতুন পাতার বাতাবরণের পয়গাম নিয়ে এসেছিলো, আজ তা শোনাচ্ছে মৃত্যুর সংবাদ। উদ্বাস্তু মানুষের আহাজারী অসহায় মুসলিম উম্মাহকে রক্তক্ষরণ তৈরী করলেও আরব বাদশাহ, নবাবদের অন্তরে রহম হয় নি অসহায় উদ্বাস্তু মানুষের বসন্ত বিলাপে। এখন মজলুম দিশেহারা সিরিয়া জাতি আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষারত। কবে বাস্তবায়ন হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষৎবাণী! কবে ইমাম মাহদী এবং তাকে সাহায্যকারী কালো পতাকাধারী বাহিনী আসবে খোরাসান , শাম ও ইয়েমেন থেকে! কবে পতন হবে ‘আরব বসন্ত’ নামে বর্বর হামলার পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ হুতাদের! কী ছিলো তাদের করণীয়! অথচ তারা আজ করছে কী! ক্রুসেডারদের প্ররোচনায় শিকড় কে হারাতে বসছে তারা! ক্রুসেডার বাহিনীর শত্রু-মিত্র কারা! মৃদু ইশারায় চিহ্নিত হবে ছদ্মবেশী এই প্রতারকরা ! আল্লাহ আমাদের চতুর্মুখী ফেতনা এবং দাজ্জালের চক্রান্ত হতে হেফাজত করুন, আমীন।

পাঠ ভাবনা —————– লেখক জসিমুদদীন আহমাদ। আলেম, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও যুদ্ধনীতি সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞানের ছাপ ‘সিরিয়া মহাযুদ্ধের কাল’র প্রতিটি ছত্রেছত্রে ছড়ানো ছিটানো। পাঠকমাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন তিনি কতোটা নিরলস পরিশ্রম করে শেষ জমানা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা কুরআন হাদীসের ভবিষৎবাণী অনুযায়ী, সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যথাসাধ্য ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে; বইটা যেহেতু গবেষণালব্ধ সেহেতু লেখকের মতের সাথে মতভিন্নতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তিনি হাদীসের ভবিষৎবাণী আর বর্তমান পরিস্থিতি কে সামনে রেখে সম্ভাব্য একটা কাঠামো তৈরী করে দেখিয়েছেন মাত্র! সবিশেষ নিবেদন হলো; যারা শেষ জমানার প্রলয়ঙ্করি ফেতনা নিয়ে জানতে চান, বা কুরআন হাদীসের পাঠে ইমাম মাহদী ও দাজ্জাল সম্পর্কিত আলোচনা পড়েন। বিশেষ করে হাদীসের কিতাবে ‘কিতাবুল ফিতান’ পড়েন বা পড়ান তাদের জন্য বইটা পড়ন-পঠন আবশ্যকীয় মনে করি। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে বইটা থেকে যথেষ্ট উপকারীতা হাসিল করতে পারবেন। যেগুলো আমাদের কাল্পনায় শক্তিকে নিথর করে ফেলে বা অনেকাংশে ভাবনায় উঁকি দেয় না। এরকম বহু বিষয় একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ্‌।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সিরিয়া মহাযুদ্ধের কাল”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X